April 18, 2026, 11:55 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আধ্যাত্মিক সাধন-ভজনের দরবার খানার প্রধান আব্দুর রহমান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযোগ উঠেছে, মামলার এজাহারভুক্ত একাধিক আসামি প্রকাশ্যেই এলাকায় চলাফেরা করছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান (হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া), পশ্চিম ফিলিপনগরের জামায়াতকর্মী রাজিব মিস্ত্রি এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. শিহাব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এজাহারভুক্ত আসামিদের কয়েকজন নিয়মিতই এলাকায় দেখা যাচ্ছে। এমনকি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত খাজা আহম্মেদ সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে প্রায় ১২ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন যেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় আসামি হিসেবে উল্লেখিত খেলাফত মজলিস নেতা আসাদুজ্জামানকে স্থানীয়ভাবে প্রকাশ্যে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গত মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজে তিনি হোসেনাবাদের একটি মসজিদে ইমামতি করেন। একইভাবে বৃহস্পতিবার দুপুরেও তাকে হোসেনাবাদ বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘুরতে দেখা যায়।
হোসেনাবাদ বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখে আমরা আতঙ্কিত। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।”
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দাবি করেছে, তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলা হলেই তাকে ধরে জেলে পুরে দিতে হবে সব ক্ষেত্রে এমনটা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তিনি বলেন, মামলার আলোকে আসামীদের সনাক্তকরণের কাজ চলছে।
তিনি দাবি করেন, পুলিশ একটি স্থির ও নিশ্চিত তালিকা করে ফেলেছে। শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফিলিপনগর এলাকায় শামীমের দরবারে হামলা চালানো হয়। উত্তেজিত জনতা দরবারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানোর পর আব্দুর রহমান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।